মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

‘অভিমান ভাঙিয়ে’ শরিকদের পাশে চায় আ.লীগ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩
image-247754-1574584245

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১৪ দলীয় জোটকে আবারও চাঙা করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। শরিকদের ‘মান-অভিমান’ ভাঙিয়ে জোটকে সক্রিয় করতে চায় তারা। এরই অংশ হিসাবে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে পাঁচটি আসনের দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোট শরিকদের। ইতোমধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। জেলা পর্যায়ে জোটকে শক্তিশালী করতে সমন্বয় কমিটি গঠনের কাজও চলছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচির কথাও ভাবা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতারা বলছেন, ১৪ দলীয় জোটের কর্মসূচি বাড়ানো এবং ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু যুগান্তরকে বলেন, ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ। আমরা নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করছি। আলাপ-আলোচনা করছি। সামনে আমাদের কার্যক্রম আরও বাড়বে। আমরা জেলাভিত্তিক নানা অনুষ্ঠান-কর্মসূচি করব। প্রতিটি দলেরও কার্যক্রম চলছে। জেলা পর্যায়ে জোটকে আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটার কার্যক্রম চলছে। অনেক জায়গায় হয়েছে, অনেক জায়গায় হচ্ছে। এটা করার জন্য ইতোমধ্যে বলাও হয়েছে। সুতরাং এটা চলছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন যুগান্তরকে বলেন, একসঙ্গে পথ চলতে গেলে একটু ঠোকাঠুকি লাগে। আবার ঠিকও হয়ে যায়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও জোটগতভাবে করার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত তো আছেই। আমরা একসঙ্গে আছি। একসঙ্গেই থাকব। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, থাকব। নির্বাচন সামনে রেখে জোটের কর্মসূচি বাড়ানো এবং ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা রয়েছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, সেটা তো আছেই।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ২৩ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি, হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদসহ প্রধানত কয়েকটি বাম দল নিয়ে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট গঠন করে। পরবর্তী সময়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, তরিকত ফেডারেশনসহ আরও কয়েকটি দল এতে যোগ দেয়। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে একে ‘আদর্শিক জোট’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। তবে তাদের আরেকটি অঙ্গীকার ছিল-‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন এবং একসঙ্গে সরকার পরিচালনা’।

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পরে গঠিত সরকারে শরিকরা একাধিক মন্ত্রীসহ সরকারে ছিল। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর শরিকবিহীন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর থেকেই শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে আওয়ামী লীগের। শরিক নেতাদের নানা সময় সরকারের প্রকাশ্য সমালোচনাও করতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ ‘একলা পথ’ চলছে বলেও শরিকদের কারও কারও অভিযোগ ছিল। শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ভেঙে সৃষ্ট ‘বাংলাদেশ জাসদ’ ইতোমধ্যে জোট ছেড়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল-যে নীতি ও আদর্শ নিয়ে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল, বাস্তবে তা আর নেই।

গত বছরের মার্চে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে জোটনেত্রী শেখ হাসিনা জানান, জোট থাকবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে জোটকে আরও শক্তিশালী করতে সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেন তিনি। এরপর থেকে সাংগঠনিকভাবে ১৪ দলের তৎপরতা বাড়াতে ঘন ঘন বৈঠক করতে দেখা গেছে জোটনেতাদের। ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় চিঠি দিয়ে শরিকদের নিয়ে বৈঠক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

জানতে চাইলে গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, ১৪ দলীয় জোট আদর্শিক জোট। আমাদের ঐক্য নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে অনেকেই নানা ধরনের কথা বলছে, নানা ষড়যন্ত্রও হচ্ছে। সামনে হয়তো এ ধরনের আরও অপচেষ্টা হবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরাও আলাপ-আলোচনা করছি। আমরা জোটগতভাবে মাঠে থাকব।

ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে জোটের মধ্যে গণতন্ত্রচর্চার অভাব রয়েছে। নির্বাচনসহ অনেক বিষয়েই জোটের মধ্যে যে ধরনের আলোচনা হওয়া দরকার, তা হয় না। ১৪ দলীয় জোটগতভাবে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়, সেটাও অনেক ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয় না। জেলা পর্যায়ে জোটকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আংশিক কার্যকর হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও জোটের শরিক দলের নেতারা মনে করেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। বিএনপিসহ তাদের শরিকরা নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মুহূর্তে ১৪ দলীয় জোটকেও আরও সক্রিয় করতে হবে। নিজেদের মধ্যকার কোনো সমস্যা থাকলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এজন্য সামনের দিনে তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সহসভাপতি এবং ঢাকা পূর্বের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ১৪ দলকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় করলে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জোটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর