মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন

গাড়ি বাড়ি ব্যাংক হিসাবের খোঁজে এনবিআর

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২
download (27)

টার্গেট ২০২৬ সালে ১ কোটি ৮০ লাখ করদাতা ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীতকরণ

শাহেদ আলী ইরশাদ
গাড়ি বাড়ি ব্যাংক হিসাবের খোঁজে এনবিআর

গাড়ি-বাড়ির নিবন্ধন আর ব্যাংক হিসাব থেকে সম্ভাব্য করদাতার সন্ধানে নামছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের পর ২০২৬ সালে ১ কোটি ৮০ লাখ আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ও ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সেকেন্ডারি ডাটাবেজ অডিট সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর।

সূত্র জানান, সেকেন্ডারি ডাটাবেজভিত্তিক অডিট সিস্টেমে এনবিআরের সঙ্গে সরকারের সেবা দানকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বিনিময় হবে। যেমন গাড়ি, বাড়ি নিবন্ধন ও ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন নম্বর বা সনদ জমা দিতে হবে। গাড়ি নিবন্ধনকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি তথ্য পাবে এনবিআর। গত বছর থেকেই গাড়ির ট্যাক্স, ফিটনেস ও অন্যান্য ফি পরিশোধের সময় মালিকের টিআইএন বা কর শনাক্তকরণ নম্বর তথ্যভান্ডারে যুক্ত করা শুরু করেছে বিআরটিএ। একইভাবে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ও ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য চলে যাবে এনবিআরে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে তালিকা সংগ্রহ করবে রাজস্ব আয় বিভাগ। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হবে। ওই সময়ের মধ্যে আয়কর দাতার সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। এজন্য করের পরিধি বাড়াতে ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ মেলে এমন তথ্যের ওপর নির্ভর করা হবে। কর আদায় বাড়াতে নেওয়া হবে প্রযুক্তির সহায়তা। আরও সহজ করা হবে কর দেওয়ার প্রক্রিয়া। আইন অনুযায়ী করযোগ্য আয় না থাকলেও ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) সবাইকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা। দেশের মানুষের একটি বড় অংশ আয়কর দেয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা যাচ্ছে, কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার হার বাড়েনি। এনবিআরের হিসাবে দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৮২ লাখ। চলতি বছরের নভেম্বর শেষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছে মাত্র ২২ লাখ টিআইএনধারী। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য থাকবে কোথাও কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কি না। এজন্য আমরা সেকেন্ডারি ডাটাবেজ অডিট সিস্টেম চালু করছি। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্ট্রিগেশন করেছি। গাড়ির মালিক কে তা আমাদের কাছে সেকেন্ডারি ডাটা থেকে আসবে। সেই গাড়ির মালিক করের আওতায় আছেন কি না আসবে। রিটার্নে গাড়ি দেখানো হয়েছে কি না, তার কটা গাড়ি, সে হিসাবে তার আয় কত? এসব তথ্য আমাদের কাছে চলে আসবে।’ অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘ট্যাক্স-জিডিপির হার মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা খুবই কম। আমাদের ট্যাক্স টু জিডিপিকে ১২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। না হলে আমরা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারব না।’ আগে ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর প্রদান করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জাতীয় বাজেটে ৩৮ ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর। এ বছরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার হার প্রত্যাশিত পর্যায়ে না হওয়ায় সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। যদিও এনবিআর বলছে, রিটার্ন জমা দেওয়ার হার এখন পর্যন্ত গত বছরের চাইতে বেশি। কিন্তু সরকার আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, রিটার্ন জমার হার সে প্রত্যাশা এখনো পূরণ করতে পারেনি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর