শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

সৌদি যুবরাজকে নিমন্ত্রণ, সমালোচনার ঝড়

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
saudi-prince

সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্রিটেনের নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। এরপর থেকে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। খবর বিবিসির।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা এবং তার মরদেহ টুকরো টুকরো করার আদেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এবং তার সরকার। এই ঘটনার পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। এছাড়া ওই অভিযোগ ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি আর ব্রিটেনে যাননি।

সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ এই সপ্তাহান্তে লন্ডনে আসবেন। তবে তিনি সোমবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সৌদি সাংবাদিকের বাগদত্তা হ্যাটিস গেঙ্গিজ বলেছেন, তাকে আমন্ত্রণ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মৃতির প্রতি একটি কলঙ্ক। যুবরাজ লন্ডনে অবতরণ করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও এমন কিছু আসলেই ঘটার ব্যাপারে সন্দেহ আছে তার।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় এমন সংস্থা ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট দ্য আর্মস ট্রেড অভিযোগ করেছে, তাদের ভাষায় সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো তাদের মানবাধিকার বিষয়ক দুর্নাম ঘোচানোর জন্য রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ব্যবহার করছে।

সংস্থাটি মনে করে, আট বছর আগে ইয়েমেনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ব্রিটেন সেখানে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে।

২০১৭ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকে সেখানে সামান্য যতটুকু রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল তাও সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সরকারের সমালোচকদের সেখানে ব্যাপকহারে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোন কিছু পোস্ট করার জন্যেও।

একই সময়ে মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবে সামাজিক উদারীকরণের একটি বিশাল কর্মসূচি শুরু করেছেন। অনৈসলামিক বলে বিবেচিত হওয়ায় সৌদি রাজতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং অন্যান্য বিনোদন জনসাধারণের জন্য আবার চালু হয়েছে।

তার আদেশে সেখানে এখন নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমোদন রয়েছে। মরুভূমির রাজ্যটিতে এখন আন্তর্জাতিক খেলাধুলা এবং সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে, যার মধ্যে ডিজে ডেভিড গুয়েটার একটি কনসার্ট রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে ব্রিটেনের এক ধরনের গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে।

ইরানের আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো সৌদি আরবকে একটি বাধা হিসেবে মনে করে। সৌদি আরব পশ্চিমা কয়েকটি দেশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে অস্ত্র ক্রয় করে। যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করে সৌদি আরব তার একটি।

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির বিরাট অংকের অস্ত্র ব্যবসা রয়েছে । দেশটি হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগ দেয়, বার্ষিক হজ যাত্রার আয়োজন করে।

বিশ্বে তেলের মজুদের ১৮ শতাংশ হচ্ছে সৌদি আরবে এবং বিশ্বের সবচাইতে বড় জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশটি। বলা হয়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এসব কারণে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে সমালোচনায় আন্তর্জাতিক মহল প্রায়শই বিরত থাকে বলে মনে করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর