শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

চা শ্রমিকরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত

মো: ফজলুল হক ফজলু
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২
tea-garden-workers

শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে তা সংশোধন করা দরকার।

বিশেষ করে শ্রম আইনে বর্ণিত ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, আবাসন, চিকিৎসা, দলীয় বীমা ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে যে বিধিমালা রয়েছে চা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা পর্যবেক্ষণ করে আইনি সীমাবদ্ধতা ও প্রায়োগিক চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

সেগুলো হলো:

কোনো শ্রমিক অবসরে গেলে কিংবা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লে তার পরিবারের একজন অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী হিসেবে চাকরি দেয়া।

বাগানের হাসপাতাল কিংবা ডিসপেন্সারি থেকে কর্মরত স্থায়ী শ্রমিক ও তাদের পোষ্যদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া।

অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের সাপ্তাহিক অবসর ভাতা প্রদান।

স্থায়ী শ্রমিকদের মজুরির ৭.৫% হিসেবে ভবিষ্য তহবিল দেয়া।

২০ দিন অসুস্থতাজনিত ছুটি দেয়া, যা শ্রম আইনে ১৪ দিন এবং ১৪ দিন উৎসব ছুটি দেয়া, যা শ্রম আইনে ১১ দিন।

২ টাকা কেজি দরে রেশন দেয়া ও একজন স্থায়ী শ্রমিকের জন্য সর্বোচ্চ তিনজনকে পোষ্য হিসেবে রেশন দেয়াসহ বেশ কিছু বাগানে ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা ইত্যাদি।

বর্তমান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ চা শ্রমিকদের প্রতিদিনের হাজিরা ২০০ টাকায় উন্নীত করে তাদেরকে কাজে ফিরিয়ে আনা। ৩০০ টাকা মালিকরা না দিতে পারলেও, ২০০ টাকা দৈনিক হাজিরা দিলে হয়তো চা শ্রমিকরা কাজে ফিরে যেত।

দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় ১২০ টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কিছুই করার উপায় থাকে না। এ টাকায় শ্রমিকদের সংসার চলবে কি করে। কারণ রৌদ্রের খরতাপ আর দ্রব্যমূলের আগুনে পুড়ছে মধ্যবিত্তরা।

চা–শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার হরণ ও চলমান বৈষম্যকে যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে, তা একদিকে মালিকপক্ষের প্রভাবশালী অংশের সংবেদনশীলতার ঘাটতি ও দীর্ঘকাল লালিত ঔপনিবেশিক মানসিকতা, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরএকাংশের শুদ্ধাচারের ঘাটতির সংমিশ্রণের ফল।

একইভাবে চা–শ্রমিকদের পর্যাপ্ত শিক্ষা ও সচেতনতার ঘাটতি এবং মালিকপক্ষের সুচতুর বিভাজন কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে চা–শ্রমিক ইউনিয়নের দর-কষাকষির দক্ষতার অভাবের কারণে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা পদদলিত হয়ে রয়েছে।

চা–শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ আইনগত অন্যান্য অধিকার নিশ্চিতে বাগানমালিক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান অধিকতর সংবেদনশীল ও মানবিকতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে স্বল্প মেয়াদে তা মালিকপক্ষের জন্য লাভজনক হতে পারে, কিন্তু এ খাতের টেকসই বিকাশের বিবেচনায় তা হবে আত্মঘাতী।

মো: ফজলুল হক ফজলু।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক. জি বাংলা টিভি।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর