https://channelgbangla.com
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বছরে দু’বার ইনজেকশন নিলেই চলবে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২২
11

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য দৈনিক কয়েক কোটি মানুষকে ওষুধ সেবন করতে হয়। তবে ওষুধ সেবন করে উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে রাখার প্রবণতার অবসান হতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। প্রতিদিন ওষুধ সেবনের পরিবর্তে সামনের দিনগুলোতে প্রতি ছয় মাস অন্তর একবার ইনজেকশন প্রয়োগ করেই মানুষ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। বিশ্বে প্রথম এ ধরনের ওষুধ ব্রিটেনের রোগীদের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ওষুধটি সর্বত্র পাওয়া যাবে। ওষুধটি সবার জন্য বাজারে ছাড়া হলে এটা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য যুগান্তকারী এক ঘটনা হবে।

নতুন এই ওষুধটির নাম ‘জিলেবেসিরান’। এই ওষুধ ‘এনজিওটেসিনুজেন’ নামক প্রোটিনকে টার্গেট করবে। এই ‘এনজিওটেসিনুজেন’কে মানুষের যকৃৎ তৈরি করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই ওষুধটির উদ্ভাবকরা বলেন, রোগীর জন্য এটা হবে অনেক বেশি ব্যবস্থাপনাযোগ্য এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান। এই ওষুধ দৈনিক সেবনে ভুলে যাওয়ার অভ্যাস থেকে রোগীকে রক্ষা করবে। ব্রিটেনের ১০০ জনসহ বিশ্বব্যাপী ৬৩০ জন রোগীর ওপর এই ওষুধটির পরীক্ষা চলছে। বিটিশ বার্টস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্ট এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন (কিউএমইউএল) গবেষণাটি করছে। এ-সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট গত ২২ এপ্রিল ব্রিটেনের ডেইলি প্রকাশ করেছে।

এই গবেষণাটিতে অ্যালনিলাম ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ (এনআইএইচআর) তিন বছরের জন্য অর্থায়ন করছে। গবেষকরা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনেরসহ উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ‘জিলেবেসিরান’ কতটুকু নিরাপদ এবং কী রকম কাজ করে তা দেখবেন।

উল্লেখ্য, উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে একটি এনজাইমের কারণে যেটা রক্তনালীকে সঙ্কুচিত করে। প্রচলিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ওই এনজাইমকে ব্লক করে দেয়। কিন্তু নতুন ওষুধ ‘এনজিওটেসিনুজেন’ এনজাইমটিকে উৎস থেকেই ব্লক করে দেয়। নতুন এই ওষুধ জেনেটিক কোড ব্যবহার করে যকৃতের উৎস থেকে সেই এনজাইমের তৈরি হওয়াটাকেই বন্ধ করে দেবে।
পরীক্ষার প্রথম ধাপে যে ৮৪ জনের ওপর নতুন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে এতে দেখা গেছে, তিন সপ্তাহ পর তাদের রক্তে হরমোনের ঘনত্ব ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। এর কার্যকারিতা ১২ সপ্তাহ বা তিন মাস পর্যন্ত ছিল। এতে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই নতুন ওষুধ অবশিষ্ট সময়ের জন্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা ১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্লাসিবো (যারা জানে না তাদের সেবন করা আসলেই ওষুধ কি না) রোগীদের ওপরও প্রয়োগ করা হয়েছে।

কিইউএমইউএল’র ক্লিনিক্যাল উপপরিচালক ও গবেষণা প্রধান ড. মনিস সাক্সেনা এ গবেষণা সম্পর্কে বলেন, এ ধরনের প্রথম গবেষণায় কাজ করতে গিয়ে আমরা চরম উত্তেজনা অনুভব করছি। এটা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ ও কার্যকর হবে।
উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে না রাখলে এবং এর চিকিৎসা না করলে পরে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে যায়। বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (২১ শতাংশ) উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অর্ধেক নারী (৫১ শতাংশ) ও দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ (৬৭ শতাংশ) জানেই না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা: আবদুল মালিক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ এখন সাইলেন্ট কিলার বা নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অনেক মানুষ জানতেই পারে না সে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। হঠাৎ হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর জানা যায়, আসলে এরা উচ্চ রক্তচাপেই ভুগছিল। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন যেমন- অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করা, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ্যপান পরিহার করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো ও নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে ওষুধ ছাড়াই অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনের প্রতি তিনজনের একজন প্রাপ্তবয়স্কের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং তাদের বছরে ২১০ কোটি পাউন্ড (এক পাউন্ড= ১০৭.০৯ টাকা) খরচ হয়ে থাকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কেনায়।

বাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর