https://channelgbangla.com
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলো ৩৩ হাজার পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২
1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়ার জন্য দুইটি কাঁথা সেলাই করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রহিমা খাতুন। এখন সেই উপহার তিনি দিতে চান প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অবশ্যই’ নেবেন বলে সাড়া দেন। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য টিভি কিনেছেন রহিমা খাতুন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এভাবেই নিজের খুশি ও ইচ্ছার কথা জানান তিনি। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ঈদের উপহার হিসেবে প্রায় ৩৩ হাজার পরিবারকে ঘর তুলে দেয়ার প্রাক্কালে গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় রহিমা খাতুন বলেন, মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে সরাসরি দেইখ্যা কথা বলার মতো ভাগ্য আমার নাই। আমার চারটা মাইয়া নিয়ে ভাড়া বাসায় ছিলাম।

অনেক বাসায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর একটা বাড়ি পাই। বাসা এত সুন্দর, একদিকে পাহাড় আরেকদিকে সমুদ্র। বিল্ডিংটা দেখলে মনে হয়, ফাইভ স্টার হোটেলের মতো। আমি মনে করি, আমার বিল্ডিং ফাইভ স্টার হোটেল। তিনি বলেন, আপনার দোয়ায় আমরা ৪০ জন একসঙ্গে ঘর পাইসি। তাদের বাচ্চাদের আমি আরবি পড়াই। আমার মেয়ে বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি  শেখায়। সব মিলিয়ে আমাদের ১০-১৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই আয় থেকে আমি ফ্রিজ কিনেছি, প্রতিদিন যাতে আপনাকে দেখতে পারি সেজন্য একটা টিভি নিয়েছি। এখন আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। আপনার দেয়া ঘরে বসে দুইটা কাঁথা সেলাই করছি। অবশ্যই এই কাঁথাগুলো আমার কাছ থেকে নিতে হবে আপনাকে। আমার আর দেয়ার কিছু নাই। আসন্ন ঈদের আগে তৃতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর পেয়েছে আরও ৩২ হাজার ৯০৪ গৃহ ও ভূমিহীন পরিবার। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এসব ঘর হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসব ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পোড়াদিয়া বালিয়া, বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী ও চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁওয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় ধাপের এসব ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন দেখি একটা মানুষ ঘর পাওয়ার পর তার মুখের হাসি। জাতির পিতা তো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাকি যে ঘরগুলো আছে সেগুলো আস্তে আস্তে তৈরি করে সব মানুষ যেন মানুষের মতো বাঁচতে পারে, সুন্দর জীবন পেতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। ভূমি ও গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ইউনিক মডেলের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। কিন্তু আমরা জাতির পিতার আদর্শের সৈনিক। আমার কাছে ক্ষমতাটা হচ্ছে জনগণের সেবা দেয়া, জনগণের জন্য কাজ করা। আমি আজকে সেটাই করে যাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলবো জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলবো। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবো এটাই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। একটা মানুষকে যদি একটু আশ্রয় দেয়া যায়, তার মুখে হাসি ফোটানো যায় এর চেয়ে বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জীবনে আর কী হতে পারে। এটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। বিত্তবানদের দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থ-সম্পদ, টাকা-পয়সা এগুলো কাজে লাগে না। করোনাভাইরাসের সময় আপনারা দেখেছেন। এ করোনাভাইরাসের সময় হাজার টাকার মালিক, হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার মালিকও কিছুই তাদের করার ছিল না। যারা বাংলাদেশে কোনোদিন চিকিৎসাই নেয়নি। তাদের কিন্তু এ দেশেই ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। কারণ টাকা থাকলেও কোথাও যেতে পারেননি তারা। আগে সর্দি-কাশি হলেও তারা উড়ে চলে যেতেন বিদেশে চিকিৎসার জন্য। করোনাভাইরাস মানুষকে একটা শিক্ষা দিয়ে গেছে। কাজেই সম্পদের পেছনে ছুটে নিজেকে মানুষের কাছে অসম্মানিত করার কোনো অর্থই হয় না। বরং দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে, একটা মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কাকে কীভাবে জন্ম দেবে, কেউ বলতে পারেন না। তৃতীয় লিঙ্গের বলে কাউকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে এটা কিন্তু আমাদের ধর্মে বলা নেই। তারাও পরিবারেরই অংশ,পরিবারেরই একজন। ভবিষ্যতে এমন কোনো শিশু জন্ম নিলে সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। সে পরিবারের একজন হিসেবেই জীবনযাপন করবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটির আঙিনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে প্রকল্পে ঘর পাওয়া একজন হিজড়াও কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আমার ১০ বছর বয়সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি। আমার সমাজ থেকে আমি বিচ্ছিন্ন হয়েছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমি পাকা ঘর পেয়েছি, দুই শতক জমি পেয়েছি। আজকে আমি এই ঘরের মালিক। আজকে আমি আমার নিজের ঘরে বসে ঈদ করতে পারবো। বিগত ২০-২২ বছর ধরে হাত পেতে খেয়েছি, কেউ ঘরও ভাড়া দিতে চায়নি। আর এখন নিজের ঘরে বসে ঈদ করতে পারবো, এর চেয়ে আনন্দের কী হতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এজন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। তৃতীয় লিঙ্গের হয়ে কেউ জন্ম নিলে সে পরিবারের সম্পদের অংশও পাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মেও বলা আছে, সে সম্পদের অংশ পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, যেখানে অনেক বড় দেশ কল্পনাও করতে পারে না, আমরা কিন্তু করেছি। করোনার টিকা থেকে শুরু করে সবকিছু। করোনার টিকা কেনার টাকা হিসাব শুধু তার করলে হবে না। এটা দেয়ার প্রক্রিয়ায় কত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আমরা কিন্তু বিনা পয়সায় দিয়েছি। অনেক উন্নত দেশ এটা দিতে পারে নাই। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো। কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে নয়। আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা চলবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বার বার মনে পড়ছে আমার বাবার কথা। তিনি শুধু ভাবতেন, কীভাবে দেশের মানুষ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পাবে। কীভাবে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। জাতির পিতার পথ ধরে আমরা মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। এটা দেখে নিশ্চয়ই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময় বলতেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে, এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন। জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাসস্থান পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। কুষ্ঠরোগী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা শ্রমিক, ছিন্নমূলসহ সমাজের প্রতিটি অবহেলিত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করছি। এটা জাতির পিতার আদর্শের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব। তিনি বলেন, সারা দেশে ৮ লাখের ওপর মানুষ পেয়েছি, যারা ছিন্নমূল। আমরা প্রতিটি মানুষকে ঘরবাড়ি করে দেবো। শুধু খাস জমি নয়, জমি কিনেও ঘর করে দিচ্ছি বিনামূল্যে। জানি না পৃথিবীর কেউ এই উদ্যোগ নিয়েছে কিনা। আমি জাতির পিতার আদর্শের কর্মী, শুধু তার কন্যা নয়। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নিশ্চিত করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে সংবিধান বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর যখন তার রাজনীতি করার খায়েশ হয়, তখন সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ যেখানে জামায়াতে ইসলামীসহ সব দলের রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না, সেটি বিলুপ্ত করে দিয়ে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ছিল না। যাদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে। তাদের মুক্তি দিয়ে  সেই বিচারের হাত থেকে তাদের রক্ষা করে জিয়াউর রহমান। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন মেধাবী ছাত্রনেতাকে খুন করে সেই সাজাপ্রাপ্ত খুনিকেও জিয়াউর রহমান মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়, অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যত যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তাদেরই ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল জিয়াউর রহমান।জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর