https://channelgbangla.com
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:২৮ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় টাকা ছাড়াই মিলছে ঈদের পোশাক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২
65

দোকান সাজানো রঙ-বেরঙের বাহারি সব জামা-কাপড়ের পসরা। দোকানে রয়েছেন কয়েকজন বিক্রয়কর্মীও। ছোট থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ আসছেন দোকানে। ঘুরে ঘুরে ফিরে পছন্দের পোশাক নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু পছন্দের পোশাক কিনতে লাগছে না কোনো টাকা। এমনই এক ব্যতিক্রমী দোকান বসেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গণমোড় সংলগ্ন কৃষি ব্যাংকের নিচে।

ঈদকে সামনে রেখে মানুষকে শুধু মাত্র আনন্দ দিতে এবং সকলের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যতিক্রমী বিনা মূল্যের এই দোকান বসিয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শাকিল আহমেদ তিয়াস। তিনি কুমারখালী ইয়াং কালেকশন, আর এন ফার্নিচার ও রাফা পাঞ্জাবী গার্মেন্টসের মালিক। আর দোকানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ঈদ আনন্দ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা’।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গণমোড় এলাকার এই ব্যতিক্রমী দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে শিশু থেকে সব বয়সী পুরুষের জন্য নতুন জামা, গেঞ্জি, পাঞ্জাবী ও পাদুকাসহ বিভিন্ন রকম পোশাক সাজানো রয়েছে। দোকানে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষের বেশ ভিড় রয়েছে। তাঁরা ঘুরেঘুরে পছন্দ করছেন পোশাক। পোশাক পছন্দ হলেই বিক্রয়কর্মীরা প্যাকেট করে দিচ্ছেন। তবে পছন্দের পোশাক নিতে কোনো টাকা লাগছে না।

দোকানে থাকা বিক্রয়কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালীর ইয়াং কালেকশন, আর এন ফার্নিচার ও রাফা পাঞ্জাবী গার্মেন্টসের মালিক শাকিল আহমেদ তিয়াস ২০২১ সাল থেকে ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন ব্যতিক্রমী দোকানের উদ্যোগ নিয়েছেন। গেল বছর প্রায় ৫৮০ জনকে টাকা ছাড়াই হাতে ঈদের পোশাক তুলে দিয়েছেন। এবছরও প্রায় ৬০০ জনকে তিনি টাকা ছাড়াই পোশাক বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় ব্যতিক্রমী এই দোকানের শুভ উদ্বোধন করেন পিয়াসের মা সুরাইয়া পারভিন বিউটি। ব্যতিক্রমী এমন দোকান থেকে পণ্য নিয়েছেন পৌরসভার এলংগী এলাকার আব্দুল জলিল (৫৫)। তিনি বলেন, ভ্যান চালায় খাই। বাজারে পোশাকের দাম বেশি। তাই খবর পেয়ে এখানে এসেছি। পছন্দ করে নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি নিয়েছি। তবে কোনো টাকা লাগেনি। একই এলাকার শাবানা খাতুন বলেন, দোকান থেকে ছেলের জন্য একটা প্যান্ট নিয়েছি। টাকা ছাড়াই পোশাক নিয়ে খুব খুশি। তিয়াস ভাইয়ের জন্য দোয়া করি।

তবে এখানে শুধু ছেলেদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও একজন মানুষ শুধুমাত্র একটি পোশাক নিতে পারবেন এখান থেকে। তেবাড়িয়া এলাকার এতিম শিশু আনাই (১০) বলেন, ফ্রি পোশাক পেয়ে খুব আনন্দিত। এই পোশাক গাঁয়ে দিয়েই ঈদে যাব। মহতী এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে সুরাইয়া পারভিন বিউটি বলেন, আমার ছেলের এমন ব্যতিক্রমী ও মহতী উদ্যোগে আমি খুব খুশি। দোয়া করি তিয়াস যেন এভাবে সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে।

ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, সকলের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আমার এ আয়োজন। এ বছর ৬০০ জনের জন্য আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর ১২টার মধ্যে প্রায় ৩৫০ পোশাক শেষ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর