https://channelgbangla.com
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

সব স্থাপনায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২
17

শিল্প কলকারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি ভবনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, প্রতিটি ভবনে খোলা জায়গা রাখতে হবে। দ্রুত অগ্নি নির্বাপণে জলাধারগুলো ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। বহুতল ভবন করতে গিয়ে অবশ্যই ফুটপাথের জন্য জায়গা রাখতে হবে। যেন মানুষের চলাচলসহ দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার ফাইটাররা গাড়ি নিয়ে গিয়ে দ্রুত কাজ করতে পারে। এজন্য প্রকৌশলীদের সবকিছু চিন্তা করে ভবন বা প্রকল্প ডিজাইন করতে হবে। গতকাল সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪০টি নবনির্মিত ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কাজী আলাউদ্দিন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন এবং নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে এই জায়গাটি একসময় খাল ছিল। সেখানে নৌকাও আসতো। এ ছাড়া এলাকাটি ছিল বিল এলাকা। সেই বিল এলাকা ভরাটের কারণে ২০০৯ সালে বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নির্বাপণের জন্য পানি পাওয়া যায়নি। পানি আনতে হয়েছে সোনারগাঁ হোটেলের সুইমিং পুল থেকে। এটাই ছিল আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বহুতল ভবনের নিচে গাড়ি রাখার জায়গা করতে গিয়ে ফুটপাথগুলো দখল করা হয়। যেসব আর্কিটেক্ট বা প্রকৌশলীরা এসব ডিজাইন করেন তারাই এমনটা করেন। এর ফলে ঢাকার ফুটপাথ দখল হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর গুলশানসহ বহু জায়গায় বড় ভবনগুলো ফুটপাথের জায়গা দখল করেই হয়েছে। কেউ একটু জায়গাও ফাঁকা রাখতে চায় না। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টসহ সবাইকে নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসের প্ল্যান করার সময়ও ফুটপাথের জায়গা ফাঁকা রেখে ও সামনে উঠান রেখে করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষে দেখা যায় উঠান তো নাই। এ ছাড়া ফুটপাথের জায়গাও দখল হয়ে গেছে। পরে ফুটপাথের জায়গা ছেড়ে দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধেরও একটা প্রভাব পড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে খেলা করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের পণ্য আর রপ্তানি করছে না। এ কারণে আমাদের দেশে যে মাটি ও মানুষ আছে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না। যার যতটুকু আছে সে ততটুকু আবাদ করবে। নিজেরা উৎপাদন করে নিজেরা ব্যবহার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলবো না, আমরা সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো। এর ফলে আমাদের দেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। একইভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি দুর্গত এলাকায় যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছতে পারে সেজন্য রাস্তার প্রশস্ততার পাশাপাশি পানির সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। জলাধারগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের এখন ২০ তলা পর্যন্ত অগ্নি নির্বাপণ সক্ষমতা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ক্রমেই এই সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সকলকে নিশ্চিত হয়েই নির্মাণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। এজন্য নিয়মিত অগ্নি নির্বাপণ মহড়ার আয়োজন এবং বহুতল ভবনে খোলা বারান্দা রাখার এবং মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাথ উন্মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফায়ার স্টেশনগুলো এবং এর মূল্যবান যন্ত্রপাতি জনগণের সম্পত্তি। এগুলোর যথাযথ যত্ন নিবেন। সর্বোচ্চ পরিমাণ সেবা যাতে আমরা পেতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। অগ্নিকাণ্ড স্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ওপর কেউ হামলা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে সবাইকে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে বর্তমান সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফায়ার ফাইটারদের বেতন কাঠামো ১৮ গ্রেড থেকে ১৭ গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা ও ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো হয়েছে। এখন কোনো কর্মী অগ্নি নির্বাপণে গিয়ে মারা গেলে ৮ লাখ টাকা ও আহত হলে চার লাখ টাকা সহায়তা পাবেন। ফায়ার সার্ভিস বিষয়ে পড়াশোনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে সর্বমোট ৪৫৬টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। বর্তমানে ৫টি বিভাগের ২৫টি জেলার ৩৯টি উপজেলায় নতুন করে ৪০টি ফায়ার স্টেশনের কার্যক্রম চালু হলো। নতুন ৪০টি স্টেশন যোগ হওয়া এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৬টিতে। ইতিমধ্যে নতুন স্টেশনগুলোতে জনবল নিয়োগ ও অগ্নি নির্বাপণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রদান করা হয়েছে। নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার স্টেশন হলো- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ফায়ার স্টেশন, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, দৌলতপুর ও সাটুরিয়া ফায়ার স্টেশন, গাজীপুরের কাপাসিয়া, মুন্সীগঞ্জ সদর (পুনর্নির্মাণ) ও সিরাজদিখান, মাগুরা সদর (পুনর্নির্মাণ), কিশোরগঞ্জের নিকলী স্থল কাম-নদী, ঢাকার কল্যাণপুর, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী (পুনর্নির্মাণ), যশোর সদর ও ঝিকরগাছা (পুনর্নির্মাণ), যশোর সেনানিবাস, যশোরের চৌগাছা ও কেশবপুর, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, ফরিদপুর সদর (পুনর্নির্মাণ), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, খাগড়াছড়ির পানছড়ি, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, কিশোরগঞ্জের ইটনা, অষ্টগ্রাম, হোসেনপুর, মিঠামইন ও পাকুন্দিয়া, মেহেরপুরের মুজিবনগর, রাজবাড়ীর কালুখালী, সাতক্ষীরার দেবহাটা, নোয়াখালীর কবিরহাট, বিবাড়ীয়ার বিজয়নগর, বান্দরবানের থানচি ও রামু, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের গৌরীপুর এবং মাদারীপুরের কালকিনি ফায়ার স্টেশন।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর