https://channelgbangla.com
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

বাঁধ ভাঙার ভয়ে আধা পাকা ধান কাটছেন কৃষক, বিক্রি হচ্ছে ‘পানির দরে’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২
46

নেত্রকোনায় হাওরের ধান পাকার পর বৈশাখের মাঝামাঝিতে শুরু হয় কাটা। বৈশাখে যখন হাওরের ঘরে ঘরে আনন্দ থাকার কথা। ঠিক এমন সময় এ বছর শঙ্কায় ঘুম নেই চোখে, আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষকের।

হাওরবাসীর সারাবছরের পরিশ্রমের ফসল শুধু ঢলের পানিতে তলিয়ে যাবার শঙ্কায় এবার বাধ্য হয়ে আধা কাঁচা-পাকা কেটে ফেলছেন কৃষকরা। বিক্রিও করছেন পানির দরে। দাম পাচ্ছেন অর্ধেক।নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সংসারসহ ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। আর এটিই এবার ডুবে যাবার ভয়ে নিজ হাতে আধা পাকা ধান কেটে ২০১৭ সালের মতো সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে হাওরের কৃষক।

 

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শঙ্কা কাটছেই না। যে কোনো সময় ধসে গেলে আধা পাকা-কাঁচা ধানই আর তুলতে পারবে না কৃষক। সব মিলিয়ে এবার কৃষকের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর ধনু নদের পানি বেড়ে ফাটল ধরে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে। ধান পাকার প্রায় একমাস আগে এমন হুমকিতে সর্বস্ব হারানোর ভয়ে কৃষক আধা কাঁচা-পাকা ধান কাটছেন। সেইসঙ্গে হাওর রক্ষায় বাঁধ পাহারা দিয়ে মেরামত করছেন। বৈশাখে ধান কাটা শুরু হলেও চৈত্রের মাঝামাঝিতেই ঢলের পানিতে খালিয়াজুরীর কির্তনখোলা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। সময়মতো বাঁধ শুরু এবং শেষ না করায় কৃষকের এমন ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ হাওরবাসীর।

এদিকে ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত অব্যাহত থাকায় যে কোনো সময় তলিয়ে যাবার আশঙ্কায় যাই পায় তাই লাভ মনে করে ধান কাটছেন কুষক। কিন্তু আধা কাঁচা-পাকা ধানে ফলন অর্ধেক হয়ে গেছে। অনেকেই শ্রমিকের কাজ স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিজেরাই করছেন। ধানও একশতে ৫০ অথবা ৬০ মণ করে মিলছে। বিক্রিও করছেন নামমাত্র মূল্যে।

অন্যদিকে ফরিয়া অর্থাৎ দালাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা ধান কিনে কৃষক বাঁচাচ্ছেন। জগন্নাথপুর গ্রামের ফরিয়া নুর হোসেন বলেন, ৭০০ টাকায় কিনে ২০ টাকা লাভে তারাও ছেড়ে দিচ্ছেন। আধা পাকা ধান, যে কারণে তারাও কৃষকদের থেকে সস্তায় কিনছেন।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এফ এম মোবারক আলী কৃষকের ক্ষতির কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ‘কাঁচা ধান দূর থেকে মনে হয়। বরং পুরো পাকলে ঝড়ে পড়ে। যে কারণে ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলা উচিত।’

তবে হাওরে তিন ধরনের সমস্যা থাকে ধান চাষে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ হলেই একমাত্র সমাধান হবে এই সমস্যার। যেমন মোহনগঞ্জে হাইজদা বাঁধ স্থায়ী হওয়ায় এ বছর তারা ভয়হীন।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর