https://channelgbangla.com
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

নাই নাই অবস্থায় মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মোহা. অলিদ মিয়া
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২
Pic Madhabpur 04.03.22

ল্যাব টেকনেশিয়ান নাই, এক্স-রে মেশিন নাই, টেকনেশিয়ান নাই, শিশু ওয়ার্ড প্রস্তুত নাই, জরুরী বিভাগ নাই, জেনারেটর নাই, কনসালটেন্ট ও জুনিয়র কনসালটেন্ট এর ১০টি পদ থাকলেও পদায়ন নাই, অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত থাকলেও এ্যানেসথেটিষ্ট ও গাইনী ডাক্তার নাই। এভাবে শুধু নাই নাই নিয়েই চলছে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মাধবপুরের ১১টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার প্রায় ৫ লক্ষাধীক জন সংখ্যার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি নাসিরনগর ও বিজয়নগরসহ ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা মাধবপুর উপজেলা কেন্দ্রটি।

প্রতিষ্ঠানটিতে নাই নাই অবস্থার কারনে রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকের উপর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে অদ্যবধি ৫০ শয্যার হাসপাতালটির জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। গত ১০ বছর যাবৎ হচ্ছে না রক্ত, কফ্ ও মূত্র পরীক্ষা। জরুরী বিভাগে চলে আয়া নাইটগার্ড দ্বারা চিকিৎস। ২ বছর অন্তর অন্তর নার্স ইনচার্জ পরিবর্তন হওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ একজনকেই ইনচার্জের দ্বায়িত্বে রাখা হয়েছে। শুধু নার্সই নয় নির্ধারিত সময়ে সেবা দিতে হাসপাতালে আসে না ডাক্তারগনও। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থেকে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ ডাক্তাই সকাল ১০টার আগে সেবা দিতে আসেন না এবং দুপুর ১টা বাজার সাথে সাথেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেলেও হাসপাতাল অঙ্গন দখল করে রাখে ব্যক্তি মালিকানাধীন একাধিক এ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পনীর প্রতিনিধিরা। জরুরী বিভাগ, বর্হিবিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীদের ভীড় থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায় না ডাক্তারদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-’২০ অর্থ বছরে ট্যাবলেট এজোথ্রোমাইসিন, সেফিক্সিম, মিসোপ্রোস্টাল, ক্লোনাজিপাম, সেফুরক্সিম, এমক্সাসিলিন, মন্টিলোকাস্ট, এটরভাসটেটিন, ইসোমিপ্লাজল, মেটফরমিন, ওমিপ্লাজল, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এলবেন্ডাজল, পমপিরিজন, কেটোটিপেন, সিটাগিল, ওলমেসার্টান মেডক্সমিল, বিসপ্রলল, কার্বিডিলল, ক্রিম ইকোনাজল, পারমেথ্রিন, ইনজেকশন জেন্টাইসিন, আগোমেট্রিন, টাইমোনিয়ান মিথাইলন সালফেট, অক্সিটক্সিন, হাইড্রোকর্টিসন, এডড্রিনালিন, ফেনোবার্টিন, ব্রুসেমাইড, এজমা রোগীদের জন্য ইনহেলারসহ ৩৮ জাতের ঔষধ মেসার্স মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামক এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ লক্ষ আটার হাজার ৬ শত নব্বই টাকা ক্রয় করা হয়েছে ।

২০-’২১ অর্থ বছরে চাহিদা বাড়ীয়ে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৩ লক্ষ ১১ হাজার ৬ শত নব্বই টাকার ঔষধ ক্রয় করা হয়। আদৌ তালিকার ঔষধ হাসপাতালে আসে না কি শুধু বিল বাউছারে লিপিবন্ধ থেকে উত্তোলীত অর্থ ভাগ ভাটারোয়ারা হয়ে যায় এমন প্রশ্ন মাধবপুরের সচেতন মহলের। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবর পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এ এইচ এম ইশতিয়াক মামুন বলেন, শুন্য পদে পদায়ন এবং যন্ত্রপাতির জন্য একাধিক বার আবেদন জানানো হয়েছে। বরাদ্দকৃত ঔষধ ও লোকবল অনুযায়ী মাধবপুরের পাশাপাশি পাশ্ববর্তি দুই উপজেলার রোগীর চাপ অত্যাধিক বেশি বলে স্বীকার করে তিনি জানান সামর্থ্যে অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর