January 20, 2022, 5:38 pm

লঞ্চে আগুন : ২ চালক কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, জানুয়ারি ৩, ২০২২
  • 19 বার পঠিত

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে-এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে করা মামলায় লঞ্চের দুই চালককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন লঞ্চের ইনচার্জ চালক মোঃ মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।

রোববার নৌ-আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগমের আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রসিকিউটিং অফিসার বেল্লাল হোসাইন বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন।

নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রসিকিউটিং অফিসার বেল্লাল হোসাইন আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ইঞ্জিনরুমের সার্বিক দায়িত্ব ইঞ্জিন চালকদের উপর বর্তায়। তারা কেবল দায়িত্বে অবহেলাই করেনি, অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের ভূমিকা ছিল ধৃষ্টতাপূর্ণ ও পলায়নপর। ইঞ্জিনরুম থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তারা যদি দায়িত্বশীলতার সাথে তদারকি করে সঠিকভাবে ইঞ্জিনরুম পরিচালনা করতো তাহলে হয়তো স্মরণকালের এই ভয়াবহ ট্রাজেডি ঠেকানো যেত। কিন্তু তারা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

আসামিরা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাধ্যমতো চেষ্টা করেও সফল হননি। এতে তাদের অবহেলা ছিল না বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন।

এর আগে ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নৌ-আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগমের আদালতে লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার মোঃ রিয়াজ সিকদার ও দ্বিতীয় মাস্টার মোঃ খলিলুর রহমান আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগমের নৌ-আদালতে নৌ-অধিদফতরের প্রধান পরিদর্শক মোঃ শফিকুর রহমান স্পেশাল মেরিন আইনের ৫৬/৬৬ ও ৭০ ধারায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসামিরা হলেন লঞ্চের মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল আরাফ অ্যান্ড কোম্পানির চার মালিক মোঃ হামজালাল শেখ, মোঃ শামিম আহম্মেদ, মোঃ রাসেল আহাম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি, ইনচার্জ মাস্টার মোঃ রিয়াজ সিকদার, ইনচার্জ চালক মোঃ মাসুম বিল্লাহ, দ্বিতীয় মাস্টার মোঃ খলিলুর রহমান এবং দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ ডিসেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে এমভি অভিযান-১০ বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। লঞ্চটি ঝালকাঠির নলছিটি থানা এলাকা অতিক্রম করার পর রাত আনুমানিক ৩টায় ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। পরে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর লঞ্চঘাটের আগে জাহাজে থাকা যাত্রীদের অনেকে নদীতে লাফ দেন। আগুনে কেবিনসহ সবই পুড়ে যায়।

ইনচার্জ মাস্টার, ইনচার্জ ড্রাইভার ও সেকেন্ড ড্রাইভার আগুন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নেয়ায় ৪২ জন যাত্রী পুড়ে মারা যান। আনুমানিক শতাধিক যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নৌযানটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ বয়া, বালির বাক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিতভাবে অনেকগুলো ডিজেলবোঝাই ড্রাম ও রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফলো করুন ফেসবুক। গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।


0Shares

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর