January 20, 2022, 5:09 pm

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, জানুয়ারি ১, ২০২২
  • 63 বার পঠিত

করোনার কারণে গত দুই বছরের ন্যায় এবারও হচ্ছে না বই উৎসব। তবে উৎসবে রেখা টানলেও বই বিতরণের কাজে বড় বাধা হতে পারেনি করোনার সংক্রমণ। নতুন বছরের শুরুর দিন শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছ বই বিতরণ কার্যক্রম।

এবারের শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠ্যপুস্তক ও ৫টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকও রয়েছে।

এবার এক দিনে বা একসঙ্গে বই না দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দিন বা সময়ে দেয়া হচ্ছে বিনা মূল্যের বই। ফলে, এবার বই বিতরণের কাজটি চলবে আরও কয়েক দিন।

রাজধানীর কয়েকটি বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায় , ভিড় ছাড়াই আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বই দেয়া হচ্ছে। তবে যারা বই পাচ্ছে, তাদের সবাই সব বই পাচ্ছে না। যতগুলো বই পাওয়ার কথা ছিল, কোনো কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তার চেয়ে কম বই পাচ্ছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো সব শ্রেণির সমস্ত বই বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। এ জন্যই কোনো কোনো শ্রেণিতে সব বই দেয়া যায়নি। মূলত, মাধ্যমিক স্তরের কয়েকটি শ্রেণিতেই এ সমস্যা হচ্ছে।

নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

অপেক্ষায় ছিলাম কখন সকাল হবে, কখন নতুন বই পাবো। আজ সকাল সকাল স্কুলে এসে উপস্থিত হই, নতুন বই হাতে নিতে। স্কুলে নতুন বই হাতে পেয়ে প্রথমে পাতা উল্টে বারবার ঘ্রাণ শুকেছি। নতুন বইয়ের গন্ধই অন্যরকম।

নতুন বই পেয়ে এমনটাই বলছিলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মেহেরুজ্জামান।

মেহেরুজ্জামান বলেন, নতুন বইয়ের প্রতি সবারই আকর্ষণ থাকে। আজ নতুন বই হাতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই হাতে নিয়ে বারবার বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখেছি।  অভিভাবক মাহমুদা আক্তার বলেন, বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কখন সকাল হবে, স্কুলে এসে নতুন বই হাতে নেবে, এটা ভেবেই রাত পার করেছে আমার ছেলে। নতুন বই হাতে পেয়ে ছেলে এখন খুব খুশি।

নিজ ভাষায় বই পেলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা

রাঙামাটিতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জেলার চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন নিজ ভাষার বই। সরকারি নিদের্শনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই বিতরণ করা হয়।

প্রাক প্রাথমিকে চাকমা ভাষায় ১২ হাজার ৮০২টি, মারমা ভাষায় দুই হাজার আটটি, ত্রিপুরা ভাষায় ৪১০টি বই। প্রথম শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১৬ হাজার ৩৭৪টি, মারমা ভাষায় তিন হাজার ২০৪টি, ত্রিপুরা ভাষায় এক হাজার ৪৯১টি বই। দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় ১৬ হাজার ৭৪টি, মারমা ভাষায় তিন হাজার ৭৫টি, ত্রিপুরা ভাষায় এক হাজার ৩৯৮টি বই। তৃতীয় শ্রেণিতে চাকমা ভাষায় পাঁচ হাজার ৪৮৭টি, মারমা ভাষায় এক হাজার ১৪৮ টি, ত্রিপুরা ভাষায় ৪৪২টি বই বিতরণ করা হয়।

শীতের সকালে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই নিতে উপস্থিত হয় শিক্ষার্থীরা। নতুন বই পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে তারা। নতুন বই নিয়ে আবারও তারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন।

নতুন বই পেয়েছে লক্ষ্মীপুরের ১১ লাখ শিক্ষার্থী

নতুন শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুরে শুরু হয়েছে বই বিতরণ উৎসব। এবছর জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ১০ লাখ ৯০ হাজার ৫১২ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে নতুন বই।

শনিবার জেলার প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একযোগে শুরু হয়েছে নতুন বই বিতরণ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে এ বই বিতরণ করা হয়। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ।

জিবাংলা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফেসবুক। গুগল প্লে স্টোর থেকে Gbangla Tv অ্যাপস ডাউনলোড করে উপভোগ করুন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান

0Shares

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর