January 18, 2022, 10:07 pm

১৫ আগস্টের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয় দিতে পারতেন না

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, নভেম্বর ২১, ২০২১
  • 27 বার পঠিত

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনার পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের পরিচয় দিতে ভয় পেতেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার সকালে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো—মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দেশের মানুষ যে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যে অবদান রেখেছিল, ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে এমন একটা সময় এসেছিল যে, যারা মুক্তিযোদ্ধা, তারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতেই ভয় পেতেন।

তিনি আরও বলেন, তারা (বীর মুক্তিযোদ্ধারা) নিজেদের পরিচয় দিতে পারতেন না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। একটা মনগড়া ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের নিজেদের বিজয়গাঁথা কখনও বিকৃত করা হয় না। কিন্তু সে ধরনের একটা জঘন্য কাজ আমাদের দেশে করা হয়েছিল।

এর আগে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে সশস্ত্র বাহিনীর শহিদ সদস্যদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
এ সময় সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

এর আগে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

পরে শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছলে সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে স্বাগত জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) যান এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

শেখ হাসিনা এএফডিতে পৌঁছলে পিএসও এবং এএফডির মহাপরিচালকরা তাকে স্বাগত জানান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয় এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে।

এই আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক দিনটিকে প্রতি বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

0Shares

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর