শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

যশোর জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের ব্যতিক্রম রায়

  • বাংলাদেশ সময় : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৯ প্রিয় পাঠক, সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

হাবিবুর রহমান হবি, যশোর : সাজা হিসেবে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচজন হতদরিদ্রকে দুপুরের খাবার খাওয়াতে হবে। এছাড়া দেখতে হবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এ ধরনের কিছু শর্ত মানা সাপেক্ষে এক বছরের জন্য মাদক মামলার এক আসামিকে মুক্তি দিয়ে ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন যশোরের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেয়া হয়। আসামির নাম আলমগীর।

তাকে ২০০৮ সালে ১৯ জুন রাত সাড়ে সাতটায় যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়া থেকে ৯ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ ঘটনায় মামলা হয়। আলমগীর যশোরের শার্শা উপজেলার রাড়িপুকুর গ্রামের মৃত রজব আলী গাজীর ছেলে।

শর্তগুলো হলো:
প্রবেশনকালে ১০টি বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচজন হতদরিদ্রকে দুপুরের খাবার খাওয়াতে হবে। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসারের নজরদারিতে থেকে কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না। শান্তি বজায় রেখে সকলের সঙ্গে সদাচারণ করতে হবে। আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে যেকোনো সময় তলব করলে শাস্তি ভোগের জন্য প্রস্তুত হয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হতে হবে। কোনো প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সঙ্গে চলাফেরা বা মেলামেশা করা যাবে না।

প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থেকে সার্বিক অবস্থা অবহিত করতে হবে। এই প্রবেশন অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না। প্রবেশনকালীন মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র (একাত্তরের যীশু, নদীর নাম মধুমতি, হুলিয়া, প্রত্যাবর্তন, পতাকা, আগামী, একজন মুক্তিযোদ্ধা, ধূসর, আমরা তোমাদের ভুলবো না, শরৎ একাত্তর) দেখতে হবে।

জেলা যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের এপিপি লতিফা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় আটকের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আলমগীর হাজিরা মিস করেননি। এ মামলা ছাড়া তার আর কোনো মামলাও নেই। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আসামির সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুনর্বাসনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশনে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম বলেন, যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস যশোরে যোগদানের পর থেকে আসামি পুনর্বাসনের জন্য একের পর এক ব্যতিক্রমী রায় ঘোষণা করে যাচ্ছেন। আসামিদের পুনর্বাসনের জন্য এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান।

 

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে জিবাংলার সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জিবাংলা টেলিভিশনের অন্যান্য সংবাদ