বরিশালে ৫ বছর পর আদালতের রায়ে ভর্তির সুযোগ পেল ছাত্রী

  • বাংলাদেশ সময় : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৮৫ প্রিয় পাঠক, সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ বছর পর রায় পেলেন এক অভিভাবক।

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় এ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহর পিতা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ।

সম্প্রতি বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক কাজী কামরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ ছাত্রীকে একটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দেয়ার পরও তাদের পূর্ণ নম্বর দেয়ার পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সেই শ্রেণিতে তাকে ভর্তি করার নির্দেশ দেন আদালত।

সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক, ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ভর্তি কমিটির সদস্য সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ, বরিশালের সিভিল সার্জন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাতী শাখায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাকে অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়। কয়েকজন ভর্তি পরীক্ষার্থী বাদীর মেয়ের চেয়ে কম নম্বর পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের উত্তীর্ণ দেখায়।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার উত্তীর্ণ ১২০ জনের খাতা প্রশ্ন ও উত্তরপত্র তলব করেন। পরে আদালত উত্তরপত্রগুলো পর্যালোচনা করেন।

আদালতের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাদীর মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৩৮.৭৫। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন ছাত্রী নাফিসা এশা, আয়শা সিদ্দিকা আফিয়া, সাজিয়া ইসলাম দিপা, জাকিয়া আক্তার, হুমায়রা ইসলাম, তানিশা মেহজাবিন, রায়তা রহমান এবং নাবিলা ইসলাম রাজিতা প্রশ্নপত্রের ১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ভুল দেয়ার পরও তাদের ওই প্রশ্নের বিপরীতে পূর্ণমান ৪ নম্বর করে দেয়া হয়।

উপরোক্ত ৮ পরীক্ষার্থী ৪ নম্বর করে কম পেলে তাদের প্রাপ্ত নম্বর বাদীর মেয়ের থেকে কম হয়। এরপরও বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।

রায়ে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহকে ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতী শাখার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করেন আদালত। একইসঙ্গে সৈয়দা তাছনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেণিতে অধ্যায়নরত তাকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই শ্রেণিতে (অষ্টম) ভর্তি করার জন্য ভর্তি কমিটিকে নির্দেশ দেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ন্যায়বিচার পেয়েছেন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ দেখিয়ে আর যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা না হয়। ভর্তি পরীক্ষার অনিয়মের কারণে আর যাতে কোনো মায়ের বা শিক্ষার্থীর চোখে অশ্রু না ঝরে। এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে জিবাংলার সাথেই থাকুন

জিবাংলা টেলিভিশনের অন্যান্য সংবাদ

বেক্সিমকো ঢাকার মতো তারকাখচিত দল জেমকন খুলনাও পাত্তা পেল না গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে।

চট্টগ্রামের তারকা বোলার মোস্তাফিজের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা।

জেমকন খুলনা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

এ জয়ের মূল নায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। ৩.৪ ওভার বল করে মাত্র ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

গত দুই ম্যাচে খুলনার সফলতম ব্যাটসম্যান আরিফুলসহ শামীম, রিশাদ ও আলআমিনকে কম রানেই সাজঘরে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ।

তবে খুলনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছেন নাহিদুল ইসলাম। সাকিবকে মাত্র ৩ রানে ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে মাত্র ১ রানে ফেরান নাহিদুল।

চট্টগ্রামের এই দাপুটে বোলিংয়ে ১৭.৫ ওভারে ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

৮৭ রানের মামুলি টার্গেটে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

যেই উইকেটে খুলনার ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে মারতেই পারেনি, সেই উইকেটেই রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার।

আল আমিন, শামীম ও হাসান মাহমুদদের তুলোধুনো করে ৪৬ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার লিটন দাস।

অন্যদিকে কিছুটা মন্থর গতিতে ২৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।

জেমকন খুলনার পক্ষে একমাত্র সাফল্য সৌম্যের উইকেট। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা দেন তিনি।

সৌম্য ফিরে গেলে মুমিনুল হল ৭ বলে ৫ রান করলে মাত্র ১৩.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।

এর আগে টস জিতে নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েসকে তিনে পাঠিয়ে ওপেনিংয়ে নামেন সাকিব।

গত দুই ম্যাচের মতো আজকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব।

শুরুতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ৬ বলে ৬ রান করা বিজয়। ৭ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও।

নাহিদুল ইসলামের বোলিংয়ে মিড অন ও লং অনের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মোসাদ্দেক সৈকতের ক্যাচে পরিণত হন সাকিব।

সাকিবের পর পরই মাত্র ১ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। মাত্র ২ টেকেন তিনি। তাকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাহিদুল।

দলের হাল ধরার চেষ্টা করে তিনে নামা ইমরুল কায়েস। ২৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্যদিকে তাকে সঙ্গ দেয়া জহুরুল অমি ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন।

আজ আরিফুল হকও বেশি দূর যেতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩০ বল টিকে থাকলেও রান করেছেন মাত্র ১৫ ।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন আরিফুল। এরপর বোলার আলআমিনকেও দ্রুতই ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

১৭.৫ ওভারে ৮৬ রান করতেই থেমে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেন নাহিদুল।

তাইজুলও ২টি উইকেট পেয়েছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। মাত্র ৫ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৪ উইকেট।

লিটন-সৌম্যর ব্যাটে উড়ে গেল চট্টগ্রাম

Close