বন্দরগুলোতে ‘করোনা নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ

  • বাংলাদেশ সময় : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩০ প্রিয় পাঠক, সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

দেশের সবগুলো বিমান, স্থল ও সমুদ্র বন্দর (পোর্ট অব এন্ট্রি) দিয়ে আসা দেশি-বিদেশি যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট আনা বাধ্যতামূলক করতে সরকারকে আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেবে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। এ পরামর্শ যেন কঠোরভাবে প্রতিপালনের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয় সেজন্য সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতেও অনুরোধ জানাবে কমিটি।

এছাড়া, কমিটি করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরীক্ষাগার থেকে দ্রুত রিপোর্ট সরবরাহের ব্যবস্থা, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানে লিকুইড অক্সিজেন ও হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলার পর্যাপ্ত মজুদ রাখার ব্যবস্থা নিতেও পরামর্শ দেবে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় আলোচনায় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে উপরোক্ত পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেবে কমিটি।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিটির এক সদস্য জানান, দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার দেশি-বিদেশি যাত্রী দেশে ঢুকছেন। বন্দরগুলোতে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখানোর কথা থাকলেও নানা অজুহাত এবং অবৈধ উপায়ে অনেক যাত্রী নেগেটিভ সার্টিফিকেট না নিয়ে এসেই বন্দরের তল্লাশি পেরিয়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছে। এসব কারণেই পরামর্শক কমিটির সদস্যরা কঠোরভাবে বিধিমালা মানতে বাধ্য করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানাবেন।

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সংক্রমনরোধে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরীক্ষাগার থেকে দ্রুত পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে ‘করোনা পজিটিভ’ রোগীদের আইসোলেশন করে সংক্রমণ রোধে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবে পরামর্শক কমিটি।

সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ও হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলার পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবি করা হলেও রোগীদের অনেকেই সময়মতো তা পাচ্ছেনা বলে জানতে পেরেছেন পরামর্শক কমিটির সদস্যরা। এ কারণে অক্সিজেন ও হাইফ্লোনাজেল ক্যানোলার পর্যাপ্ত মজুদ রাখারও পরামর্শ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলানের সঙ্গে। তিনি জানান, সবগুলো বন্দরে বিদেশ থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীর কাছে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করতে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডা. আর্সলান বলেন, বিমানবন্দরে আসা কোনো যাত্রী করোনা সার্টিফিকেট না নিয়ে এলে কিংবা কারও আনা সার্টিফিকেট ভুয়া মনে হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠিয়ে দ্রুত আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগারে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, পজিটিভ হলে নির্দিষ্ট সময় আইসোলেশন সেন্টার অথবা হাসপাতলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তাকে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেয়া যেতে পারে।

এ ব্যাপারে আগেও নির্দেশনা থাকলেও তা পালিত হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণের হার বৃদ্ধি রোধে সরকারকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও তৎপর হতে হবে।

এমইউ/এসএস/এমএস

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে জিবাংলার সাথেই থাকুন

জিবাংলা টেলিভিশনের অন্যান্য সংবাদ

বেক্সিমকো ঢাকার মতো তারকাখচিত দল জেমকন খুলনাও পাত্তা পেল না গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে।

চট্টগ্রামের তারকা বোলার মোস্তাফিজের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা।

জেমকন খুলনা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

এ জয়ের মূল নায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। ৩.৪ ওভার বল করে মাত্র ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

গত দুই ম্যাচে খুলনার সফলতম ব্যাটসম্যান আরিফুলসহ শামীম, রিশাদ ও আলআমিনকে কম রানেই সাজঘরে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ।

তবে খুলনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছেন নাহিদুল ইসলাম। সাকিবকে মাত্র ৩ রানে ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে মাত্র ১ রানে ফেরান নাহিদুল।

চট্টগ্রামের এই দাপুটে বোলিংয়ে ১৭.৫ ওভারে ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

৮৭ রানের মামুলি টার্গেটে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

যেই উইকেটে খুলনার ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে মারতেই পারেনি, সেই উইকেটেই রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার।

আল আমিন, শামীম ও হাসান মাহমুদদের তুলোধুনো করে ৪৬ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার লিটন দাস।

অন্যদিকে কিছুটা মন্থর গতিতে ২৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।

জেমকন খুলনার পক্ষে একমাত্র সাফল্য সৌম্যের উইকেট। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা দেন তিনি।

সৌম্য ফিরে গেলে মুমিনুল হল ৭ বলে ৫ রান করলে মাত্র ১৩.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।

এর আগে টস জিতে নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েসকে তিনে পাঠিয়ে ওপেনিংয়ে নামেন সাকিব।

গত দুই ম্যাচের মতো আজকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব।

শুরুতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ৬ বলে ৬ রান করা বিজয়। ৭ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও।

নাহিদুল ইসলামের বোলিংয়ে মিড অন ও লং অনের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মোসাদ্দেক সৈকতের ক্যাচে পরিণত হন সাকিব।

সাকিবের পর পরই মাত্র ১ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। মাত্র ২ টেকেন তিনি। তাকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাহিদুল।

দলের হাল ধরার চেষ্টা করে তিনে নামা ইমরুল কায়েস। ২৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্যদিকে তাকে সঙ্গ দেয়া জহুরুল অমি ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন।

আজ আরিফুল হকও বেশি দূর যেতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩০ বল টিকে থাকলেও রান করেছেন মাত্র ১৫ ।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন আরিফুল। এরপর বোলার আলআমিনকেও দ্রুতই ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

১৭.৫ ওভারে ৮৬ রান করতেই থেমে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেন নাহিদুল।

তাইজুলও ২টি উইকেট পেয়েছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। মাত্র ৫ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৪ উইকেট।

লিটন-সৌম্যর ব্যাটে উড়ে গেল চট্টগ্রাম

Close