কন্যার হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরমায়ের সংবাদ সম্মেলন

  • বাংলাদেশ সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৯ প্রিয় পাঠক, সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন

আঃ মতিন সরকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতরবালা গ্রামে রোমানা আক্তার হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে মায়ের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮ আগষ্ট (শনিবার) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরের হরিণমারী গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ীতে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রোমানার মা লাইজু বেগম।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতরবালা গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে আঃ রহিম মিয়ার সহিত গত ৩/৪ বছর পূর্বে আমার কন্যা রোমানা আক্তারের মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর হতে আমার কন্যা রোমানা ঘর-সংসার করে আসছিল।

ঘর-সংসার করাকালে আমার কন্যার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু আমার জামাই যৌতুকের লোভী আঃ রহিম দীর্ঘদিন হতে আমার কন্যাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসত। কন্যার সুখের কথা ভেবে নগদ অর্থ, আসবাবপত্র স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ প্রদান করি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগষ্ট ২০২০ তারিখ রাত্রি অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে আমার কন্যার শ্বশুর নজরুল মিয়া তার নিজ ফোন নম্বর-০১৭৯৮-৯২২৮০৫ হতে আমার ০১৭৬১-৩৮৭৩৪৩ নম্বর ফোনে জানায় আপনার কন্যা গলায় ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন।

খবর পেয়ে আমিসহ আমার আত্মীয়-স্বজনরা দ্রæত আমার কন্যার শ্বশুর বাড়ী জাইতরবালায় পৌঁছি। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই যে আমার জামাই আঃ রহিমের পশ্চিম দুয়ারী ঘরের খাটের উপর আমার কন্যার মরদেহ শোয়াইয়ে রাখা। ওই সময় আমার কন্যার মুখে উপর থাকা গামছা সরাইয়া দেখতে পাই যে, আমার মৃত কন্যার দুই চোয়ালের উপর মারডাং চিহৃসহ নিচের ঠোঁটটি কালা এবং বাম পায়ের উরু লাল ও ফুলিয়া রয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার জামাই, তার শ্বশুরসহ অপরিচিত ব্যক্তিদ্বয় আমার কন্যাকে মারডাং করে তার মুখে ওড়না গুজাইয়া মেরে ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা লাইজু বেগম ছাড়াও নিহতের বাবা আঃ রশিদ, বোন রুমী আক্তার মরিয়ম ও তারমিন আক্তার সুমী উপস্থিত ছিলেন।

লাইজু বেগম তার কন্যার হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে মাননীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী, রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি), পুলিশ সুপার গাইবান্ধাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জরুরী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে জিবাংলার সাথেই থাকুন

জিবাংলা টেলিভিশনের অন্যান্য সংবাদ

বেক্সিমকো ঢাকার মতো তারকাখচিত দল জেমকন খুলনাও পাত্তা পেল না গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কাছে।

চট্টগ্রামের তারকা বোলার মোস্তাফিজের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা।

জেমকন খুলনা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

এ জয়ের মূল নায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। ৩.৪ ওভার বল করে মাত্র ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

গত দুই ম্যাচে খুলনার সফলতম ব্যাটসম্যান আরিফুলসহ শামীম, রিশাদ ও আলআমিনকে কম রানেই সাজঘরে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ।

তবে খুলনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছেন নাহিদুল ইসলাম। সাকিবকে মাত্র ৩ রানে ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে মাত্র ১ রানে ফেরান নাহিদুল।

চট্টগ্রামের এই দাপুটে বোলিংয়ে ১৭.৫ ওভারে ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

৮৭ রানের মামুলি টার্গেটে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

যেই উইকেটে খুলনার ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে মারতেই পারেনি, সেই উইকেটেই রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন চট্টগ্রামের ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার।

আল আমিন, শামীম ও হাসান মাহমুদদের তুলোধুনো করে ৪৬ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার লিটন দাস।

অন্যদিকে কিছুটা মন্থর গতিতে ২৯ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার।

জেমকন খুলনার পক্ষে একমাত্র সাফল্য সৌম্যের উইকেট। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা দেন তিনি।

সৌম্য ফিরে গেলে মুমিনুল হল ৭ বলে ৫ রান করলে মাত্র ১৩.৪ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।

এর আগে টস জিতে নিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েসকে তিনে পাঠিয়ে ওপেনিংয়ে নামেন সাকিব।

গত দুই ম্যাচের মতো আজকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব।

শুরুতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ৬ বলে ৬ রান করা বিজয়। ৭ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও।

নাহিদুল ইসলামের বোলিংয়ে মিড অন ও লং অনের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মোসাদ্দেক সৈকতের ক্যাচে পরিণত হন সাকিব।

সাকিবের পর পরই মাত্র ১ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। মাত্র ২ টেকেন তিনি। তাকে লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাহিদুল।

দলের হাল ধরার চেষ্টা করে তিনে নামা ইমরুল কায়েস। ২৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্যদিকে তাকে সঙ্গ দেয়া জহুরুল অমি ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন।

আজ আরিফুল হকও বেশি দূর যেতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩০ বল টিকে থাকলেও রান করেছেন মাত্র ১৫ ।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন আরিফুল। এরপর বোলার আলআমিনকেও দ্রুতই ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ।

১৭.৫ ওভারে ৮৬ রান করতেই থেমে যায় জেমকন খুলনার ইনিংস।

চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেন নাহিদুল।

তাইজুলও ২টি উইকেট পেয়েছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। মাত্র ৫ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ৪ উইকেট।

লিটন-সৌম্যর ব্যাটে উড়ে গেল চট্টগ্রাম

Close